জাবি প্রতিনিধি: মোঃ শরিফুল ইসলাম
বৈষম্য নিরসন ও ক্লাসরুম সংকট সমাধানের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীরা।বারবার আলোচনার পরেও রুম সংকট সমাধান না হওয়ায় এ অবস্থান কর্মসূচি পালন করে তারা।
বৃহস্পতিবার (১৫ ই জানুয়ারি) বেলা ১১.৪৫ টায় নতুন কলাভবন থেকে মিছিল নিয়ে রেজিস্ট্রার ভবনে গিয়ে পরবর্তীতে সেখানে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী। এ সময় তারা ‘জ্বালোরে জ্বালো – আগুন জ্বালো’, ‘ইংরেজি বিভাগের রুম কোথায় – প্রশাসন জবাব চাই’, ‘আমাদের প্রতি বৈষম্য কেন -প্রশাসন জবাব চাই’, ‘পড়ালেখার সুযোগ চাই – দিতে হবে দিতে হবে’, ‘ক্লাস করার রুম চাই – দিতে হবে দিতে হবে’, ‘আমাদের সাথে টালবাহানা – চলবেনা চলবেনা ‘,
‘প্রশাসনের মূলা – মানিনা মানবোনা’, ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকে।
বিভাগের ৫০ তম আবর্তনের শিক্ষার্থী সাজ্জাদ হোসেনের সঞ্চালনায় অন্যান্য শিক্ষার্থীরা বক্তব্য রাখেন।
এ সময় বিভাগের ৫০ তম আবর্তনের শিক্ষার্থী তাহমিনা বিনতে তৃষা বলেন, আমরা ইংরেজি বিভাগের মাস্টার্স পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা—প্রতিটি ব্যাচে প্রায় ৯০ জন করে শিক্ষার্থী। আমি জানি না, এই ক্যাম্পাসে আর কোনো বিভাগ আছে কিনা যেখানে এত বেশি শিক্ষার্থী থাকা সত্ত্বেও মোট রুম সংখ্যা মাত্র আড়াইটি। এই আড়াইটি রুমে কোনোভাবেই আমাদের ক্লাস পরিচালনা করা সম্ভব নয়—এটা বাস্তবতা, এটা অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই।
আরও দুঃখজনক বিষয় হলো—বিগত সময়ে আমরা আমাদের শিক্ষকসহ একাধিকবার অন্য একটি বিভাগে ক্লাস করতে গিয়েছি। সেখানে আমাদের সঙ্গে অত্যন্ত অশোভন ও অপমানজনক আচরণ করা হয়েছে। আমাদের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সরাসরি ক্লাসরুম থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে, সহশিক্ষা ও সহাবস্থানের পরিবেশে, এ ধরনের ঘটনা আমাদের জন্য চরম লজ্জাজনক ও হতাশাজনক।
তিনি আরো বলেন, যদি শীতকালীন ছুটির পরে এসে আমরা আমাদের ক্লাসরুম না পাই,
তাহলে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আর কোনো কার্যক্রম চলতে দেওয়া হবে না।
প্রশাসনিক কার্যক্রম, একাডেমিক কার্যক্রম—সব জায়গায় তালা বন্ধ কর্মসূচি দিতে আমরা বাধ্য হবো। আমরা সংঘাত চাই না, বিশৃঙ্খলা চাই না—
আমরা চাই আমাদের ন্যায্য অধিকার: ক্লাসরুম।
এই অধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।
৫০ তম আবর্তনের আরেক শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম বাপ্পি বলে, ‘ আমরা বিভাগের সভাপতি, অনুষদের ডিন, উপাচার্য সহ প্রশাসনের সকলের সাথে বারবার কথা বলেছি, মিটিং করেছি তারা আমাদের আশ্বস্ত করেছিল কিন্তু এখন পর্যন্ত সমাধান হয়নি। আমাদের ক্লাসরুম সংকটের সমাধান না হলে আমরা সবাই রেজিস্ট্রার ভবনে ক্লাস করবো এবং সংকট নিরসন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবো।
বিভাগের ৫৩ তম আবর্তনের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আলী চিশতি বলেন, ‘ আজ আমরা এখানে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে সমবেত হইনি। আমরা এসেছি আমাদের ন্যায্য শিক্ষার অধিকার নিয়ে কথা বলতে। আমরা সবাই জানি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই ইংরেজি বিভাগ একটি অন্যতম প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ। অথচ অত্যন্ত দুঃখ ও লজ্জার সঙ্গে বলতে হচ্ছে—আজ এই বিভাগের শিক্ষার্থীরা ক্লাসরুমে বসে ক্লাস করার মতো ন্যূনতম পরিবেশ থেকেও বঞ্চিত।
আমাদের বাস্তবতা এমন যে, একটি ব্যাচ ক্লাস চলাকালীন সময়ে আরেকটি ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ক্লাসরুমের বাইরে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়। বড় ভাইদের ক্লাস চলার সময় ছোট ভাইদের ক্লাস বন্ধ থাকে, আবার ছোটদের ক্লাস নিতে গেলে বড়দের বাইরে দাঁড়াতে হয়। এভাবে একটি বিভাগ বছরের পর বছর চরম অনিয়মের মধ্য দিয়ে চলছে। এই অনিয়মগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর সমস্যা হচ্ছে চরম ক্লাসরুম সংকট। ক্যাম্পাসে আসার পর থেকেই আমরা বারবার এই সমস্যার কথা তুলে ধরেছি। প্রতিবারই আমাদের আশ্বস্ত করা হয়েছে “খুব দ্রুত এই সংকটের সমাধান হবে।” কিন্তু বাস্তবতা হলো, বছরের পর বছর পার হয়ে গেলেও সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। বরং আশপাশের বিভাগ আমাদের ক্লাসরুম ভাগ করে নিয়েছে। তিনি আরো বলেন, আমরা বারবার গোলটেবিল বৈঠকে বসেছি, জাকসু নির্বাচন হয়েছে, জিএস প্রতিনিধি হয়ে বৈঠক হয়েছে, বিভাগে ক্লাস সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে—কিন্তু আজ পর্যন্ত আমাদের চলমান ক্লাসরুম সংকটের কোনো বাস্তব সমাধান দেওয়া হয়নি।
উল্লেখ্য, এর আগেও বেশ কয়েকবার আলোচনায় ও বিক্ষোভ মিছিল করে বিভাগের শিক্ষার্থীরা।











