ঢাকা ০৪:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সারাদেশে ধারাবাহিক শিশু নির্যাতনের ঘটনায় সেন্টার ফর চাইল্ড রাইটসের উদ্বেগ সারাদেশে শিশু ধারাবাহিক শিশু নির্যাতনের ঘটনায় সেন্টার ফর চাইল্ড রাইটসের উদ্বেগ জবিতে জকসুর উদ্যোগে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প আগামীকাল জবি আইনজীবী সমিতির নেতৃত্বে তরিকুল-পলাশ জবিতে র‍্যাগিং মুক্ত ক্যাম্পাস গড়ার লক্ষে সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন ছাত্রদল নেতার ইবিস্থ আইইউসানস’র নবীনবরণ ও প্রবীণ বিদায় অনুষ্ঠিত ঈদে বিভাগীয় শহরে বাসের আবেদন জকসুর সীমান্তে হত্যা ও মুসলিম নির্যাতনের প্রতিবাদে জবিতে জাতীয় ছাত্রশক্তির বিক্ষোভ সীমান্তে হত্যা ও মুসলিম নির্যাতনের প্রতিবাদে জবিতে জাতীয় ছাত্রশক্তির বিক্ষোভ ইডেন কলেজ ছাত্রীদের ‘নষ্টা’ বললেন ইবি ছাত্রদল নেতা, সমালোচনা

ঐতিহ্যের আবহে রুয়েট ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর “পিঠা উৎসব ২০২৬”

  • আপডেট সময় : ০৫:৩০:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৬৪৭ বার পড়া হয়েছে

বাঙালির লোকজ সংস্কৃতি ও শীতকালীন ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের মাঝে তুলে ধরতে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) আয়োজন করা হয় আনন্দঘন “পিঠা উৎসব ২০২৬” (১৪৩২ বঙ্গাব্দ)।

আজ ১৫ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) বিকেল ৩টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল ফিল্ডে রুয়েট পরিবারের উদ্যোগে উৎসবটি অনুষ্ঠিত হয়। রাজশাহী শহর পরিষদ, রুয়েট এ আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রুয়েটের উপাচার্য প্রফেসর ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্যের সহধর্মিণী ও গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. লায়লা আরজুমান বানু। সভাপতিত্ব করেন রুয়েট ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক প্রফেসর ড. মো. রবিউল ইসলাম সরকার।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ফিতা কাটা ও ফুলেল শুভেচ্ছার মাধ্যমে অতিথিদের বরণ করা হয়। পরে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। এসময় অতিথিরা তাঁদের বক্তব্যে বাঙালি সংস্কৃতি সংরক্ষণে এ ধরনের আয়োজনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “পিঠা পার্বণ আমাদের গ্রামবাংলার বহু প্রজন্মের ঐতিহ্য বহন করে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার চাপের বাইরে মানসিক প্রশান্তি ও সংস্কৃতির স্বাদ দিতে এমন আয়োজন অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।” তিনি ভবিষ্যতেও রুয়েটে এ ধরনের সাংস্কৃতিক আয়োজন অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ জানান।

অনুষ্ঠান শেষে বিশেষ অতিথি ডা. লায়লা আরজুমান বানুর উদ্যোগে বিভিন্ন মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও এতিম শিশুদের মাঝে প্রায় ২০০টি শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। এসময় তিনি বলেন, “আজকের এই উৎসবে তারাই আমাদের সবচেয়ে সম্মানিত অতিথি। রুয়েট সবসময় তাদের পাশে থাকবে।”

উৎসব আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক ড. রবিউল ইসলাম সরকার বলেন, “এই আয়োজন শিক্ষার্থীদের শিকড়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি মানবিকতা ও সহমর্মিতার চর্চাকে উৎসাহিত করে।”

আয়োজকরা জানান, বাঙালির ঐতিহ্যবাহী পিঠা ও গ্রামীণ সংস্কৃতির স্বাদ তুলে ধরতেই এ আয়োজন করা হয়েছে। এবারের পিঠা উৎসবে রুয়েটের শিক্ষকবৃন্দ, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।

রাজশাহী শহর পরিষদের সভাপতি মিরাত শাফিন তূর্য বলেন, “রুয়েট পরিবারের এমন আয়োজন পারস্পরিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করবে এবং সম্প্রীতির এক ইতিবাচক বার্তা সমাজে ছড়িয়ে দেবে।”

উৎসবকে ঘিরে ক্যাম্পাসজুড়ে ভাপা, পুলি, চিতই, পাটিসাপটা ও দুধচিতইসহ নানা ধরনের দেশীয় পিঠার স্টল বসানো হয়। অংশগ্রহণকারীরা মনে করেন, এ ধরনের উৎসব নগরজীবনের ব্যস্ততায় হারিয়ে যেতে বসা বাঙালি ঐতিহ্যকে নতুন করে প্রাণবন্ত করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সারাদেশে ধারাবাহিক শিশু নির্যাতনের ঘটনায় সেন্টার ফর চাইল্ড রাইটসের উদ্বেগ

ঐতিহ্যের আবহে রুয়েট ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর “পিঠা উৎসব ২০২৬”

আপডেট সময় : ০৫:৩০:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

বাঙালির লোকজ সংস্কৃতি ও শীতকালীন ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের মাঝে তুলে ধরতে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) আয়োজন করা হয় আনন্দঘন “পিঠা উৎসব ২০২৬” (১৪৩২ বঙ্গাব্দ)।

আজ ১৫ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) বিকেল ৩টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল ফিল্ডে রুয়েট পরিবারের উদ্যোগে উৎসবটি অনুষ্ঠিত হয়। রাজশাহী শহর পরিষদ, রুয়েট এ আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রুয়েটের উপাচার্য প্রফেসর ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্যের সহধর্মিণী ও গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. লায়লা আরজুমান বানু। সভাপতিত্ব করেন রুয়েট ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক প্রফেসর ড. মো. রবিউল ইসলাম সরকার।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ফিতা কাটা ও ফুলেল শুভেচ্ছার মাধ্যমে অতিথিদের বরণ করা হয়। পরে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। এসময় অতিথিরা তাঁদের বক্তব্যে বাঙালি সংস্কৃতি সংরক্ষণে এ ধরনের আয়োজনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “পিঠা পার্বণ আমাদের গ্রামবাংলার বহু প্রজন্মের ঐতিহ্য বহন করে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার চাপের বাইরে মানসিক প্রশান্তি ও সংস্কৃতির স্বাদ দিতে এমন আয়োজন অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।” তিনি ভবিষ্যতেও রুয়েটে এ ধরনের সাংস্কৃতিক আয়োজন অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ জানান।

অনুষ্ঠান শেষে বিশেষ অতিথি ডা. লায়লা আরজুমান বানুর উদ্যোগে বিভিন্ন মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও এতিম শিশুদের মাঝে প্রায় ২০০টি শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। এসময় তিনি বলেন, “আজকের এই উৎসবে তারাই আমাদের সবচেয়ে সম্মানিত অতিথি। রুয়েট সবসময় তাদের পাশে থাকবে।”

উৎসব আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক ড. রবিউল ইসলাম সরকার বলেন, “এই আয়োজন শিক্ষার্থীদের শিকড়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি মানবিকতা ও সহমর্মিতার চর্চাকে উৎসাহিত করে।”

আয়োজকরা জানান, বাঙালির ঐতিহ্যবাহী পিঠা ও গ্রামীণ সংস্কৃতির স্বাদ তুলে ধরতেই এ আয়োজন করা হয়েছে। এবারের পিঠা উৎসবে রুয়েটের শিক্ষকবৃন্দ, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।

রাজশাহী শহর পরিষদের সভাপতি মিরাত শাফিন তূর্য বলেন, “রুয়েট পরিবারের এমন আয়োজন পারস্পরিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করবে এবং সম্প্রীতির এক ইতিবাচক বার্তা সমাজে ছড়িয়ে দেবে।”

উৎসবকে ঘিরে ক্যাম্পাসজুড়ে ভাপা, পুলি, চিতই, পাটিসাপটা ও দুধচিতইসহ নানা ধরনের দেশীয় পিঠার স্টল বসানো হয়। অংশগ্রহণকারীরা মনে করেন, এ ধরনের উৎসব নগরজীবনের ব্যস্ততায় হারিয়ে যেতে বসা বাঙালি ঐতিহ্যকে নতুন করে প্রাণবন্ত করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।